হাওজা নিউজ এজেন্সি: লেবাননের সেনাপ্রধানের মতে, সেনাবাহিনীকে সরাসরি হিজবুল্লাহর মুখোমুখি দাঁড় করানো একেবারেই “অবাস্তব” উদ্যোগ।
সরকারের নির্দেশনা ও সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি লেবানন সরকার সেনাবাহিনীকে আগামী রবিবারের মধ্যে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি এবং বছরের শেষ নাগাদ তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সেনাপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রোদলফ হাইক্যাল এ উদ্যোগে সন্তুষ্ট নন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সেনাবাহিনীকে এ কাজে ব্যবহার করলে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান— “ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাইক্যাল কোনো এক পর্যায়ে পদত্যাগের হুমকিও দিয়েছেন। তার অবস্থান পরিষ্কার—সরকারকে সর্বসম্মত রাজনৈতিক চুক্তির পথে যেতে হবে, সেনাবাহিনীকে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ানো যাবে না।”
প্রেসিডেন্টের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, যিনি নিজেও সাবেক সেনাপ্রধান, সেনাবাহিনীর এই জটিল অবস্থানকে সরকারের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। তিনি সেনাপ্রধানের উদ্বেগকে যথার্থ বলেই দেখছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
এদিকে মার্কিন কূটনীতিক টম ব্যারাক ও মরগান অরটাগাস লেবাননের নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা ঘোষণা না করা পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো উত্তেজনা প্রশমন বা গ্যারান্টি দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়ে দিয়েছে—এই পদক্ষেপ ছাড়া লেবানন কোনো আর্থিক সহায়তা কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন পাবে না।
সরকারের আশা বনাম বাস্তবতা
শিয়া মন্ত্রীদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করেই লেবানন সরকার নিরস্ত্রীকরণের পথে অগ্রসর হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, এতে ইসরায়েলও পাল্টা কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হিজবুল্লাহর শর্ত
অন্যদিকে হিজবুল্লাহর স্পষ্ট অবস্থান—
▪️ইসরায়েলকে প্রথমে দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার হতে হবে।
▪️সীমান্তে আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।
এসব শর্ত পূরণ না হলে নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো আলোচনাই সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে দলটি।
লেবাননের ভঙ্গুর রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের এই অবস্থান নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের চাপ, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর কঠোর শর্ত—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে লেবানন সরকারের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার কমেন্ট